টমেটোর গুণাগুণ জানলে আপনি শুধু টমেটোই খেতে চাইবেন…

‘টমেটো’ কার না প্রিয়। ছোট-বড় সব মানুষেরই পছন্দের খাবার টমেটো সবজি। নানা ভাবে আমরা ‘টমেটো’ খেয়ে থাকি। কেউ কাঁচা খেতে পছন্দ করেন আবার কেউ কেউ সালাদ বা রান্না করে খেতে ভালবাসেন। যাহোক যে যেভাবেই খাইনা কেন, আসুন জেনে নেই শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী ‘টমেটো’র পুষ্টিগুণ।

একশ গ্রাম টমেটোতে যে উপাদানগুলো রয়েছেঃ
ভিটামিন এ-১০০০আই ইউ,ভিটামিন সি-২৩ মিলি গ্রাম,ক্যালসিয়াম-১১ মিলি গ্রাম, লৌহ-০.৬ মিলি গ্রাম, ফসফরাস-২৭ মিলি গ্রাম,পটাশিয়াম-৩৬০ মিলি গ্রাম, প্রোটিন -১ গ্রাম, গ্লুটাসিক অ্যাসিড-১০০-১৪০ গ্রাম, শক্তি-২০ ক্যালরি, পানি-৯৪%

টমেটোর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাঃ

টমেটো হৃদরোগ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে থাকে। ত্বকের সৌন্দর্য্য ধরে রাখতে, রক্তক্ষরণ বন্ধ,এবং রক্তের কোলেষ্টরল কমাতে টমেটো বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। কম ফ্যাট এবং কম ক্যালোরির টমেটো যে কোনও বয়সের মানুষের জন্যই উপকারি। প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং মিনারেল থাকার কারণে নিয়মিত টমেটো খেলে স্বাস্থ্যের উন্নতি হতে শুরু করবে। আর টমেটোর অন্যতম উপাদান হলো লাইকোপিন। টমেটো যত লাল, লাইকোপিন ততই বেশি। খুব শক্তিশালী একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে লাইকোপিনের রয়েছে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা। টমেটোর গুণের ফিরিস্তি শুনে টমেটো খাবার ইচ্ছে হতেই পারে। খাবারে টমেটোর পুষ্টি বেশি করে আনার রয়েছে কিছু কৌশল। আসুন সেগুলো দেখে নেওয়া যাক।

শীতকালীন রসালো একটি সবজি টমেটো। তবে কাঁচা বা রান্না সবভাবেই টমেটোর ব্যবহার হয়ে থাকে। টমেটোর জুস, কেচাপ, স্যুপ, সস এবং সালাদের জুড়ি মেলা দায়। সারা বছরই সবজির তালিকায় বাজারে তার দেখা পাওয়া যায়। প্রাকৃতিকভাবে পাকানো এবং সংরক্ষিত টমেটোর রয়েছে বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা। ছোট-বড়, গোল, লম্বাটে, লাল, হলুদ, সবুজ, কালো বিভিন্ন রং-এর এবং বিভিন্ন আকারের ও স্বাদের টমেটো আছে। জেনে নেয়া যাক বাহারি টমেটোর সব গুণ।

দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়
টমেটোতে রয়েছে চোখের জন্য অতিপ্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘এ’। এটি দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে সাহায্য করে। রাতকানা রোগ ও মলিকুলার ডি-জেনারেশন প্রতিরোধে রয়েছে কার্যকরী ভূমিকা।

ক্যান্সার প্রতিরোধ
টমেটো সবজি হলেও এর মধ্যে রয়েছে ফলের বিভিন্ন গুণ। এজন্য রান্না না করেও ফলের মতো খাওয়া যায়। টমেটোই বিদ্যমান লাইকোপেন নামের উপাদানটি ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। বিশেষ করে ফুসফুস, পাকস্থলী ও প্রোস্টেট ক্যান্সার। ভারি খাবারের পর একটু টমেটোর জুস খেলে তা হজমেও সহায়তা করে।

নার্ভ শান্ত রাখে
যাদের খাবারে অরুচি, তাদের জন্য টমেটো খুবই উপকারী। তাছাড়া টমেটো উচ্চ রক্তচাপ কমাতেও ভূমিকা রাখে। টমেটো নার্ভকে শান্ত রাখে এবং ভালো ঘুমাতে সাহায্য করে।

রক্তকে স্বাভাবিক রাখে
একটি টমেটো দিতে পারে দৈনিক প্রয়োজনের ৪০ ভাগ ভিটামিন সি। এছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন ‘এ’, পটাসিয়াম এবং আয়রন। এর সব ক’টিই রক্তকে স্বাভাবিক ও সবল রাখে। এতে থাকা ভিটামিন ‘কে’ রক্ত পড়া ও জমাট বাঁধা নিয়ন্ত্রণ করে।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
টমেটোতে থাকা লাইকোপেন কার্ডিওভাসকুলার রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। নিয়মিত টমেটো খেলে রক্তের কোলেস্টরল ও ট্রিগলাইসিরাইডের মাত্রা ঠিক থাকে। এ ছাড়া শিরায় চর্বি জমতে দেয় না।

হজমশক্তি বাড়ায়
নিয়মিত টমেটো  খেলে হজমপ্রক্রিয়া ভালো থাকে। কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়া রোধ করে। এ ছাড়া জন্ডিস প্রতিরোধ করে এবং শরীর থেকে টক্সিন সরিয়ে দেয়।

Share love